Tuesday, 1 July 2025

দূর্গা পুজার অভিজ্ঞতা!

অষ্টমীর দিন দুই বন্ধু ঠাকুর ( বা বলা ভাল মেয়ে!) দেখতে বেরিয়েছি। আমাদের এলাকা থেকে কিছু দূরে দেখি টপ-জিন্স-স্নিকার পরা আমাদের প্রায় অর্ধেক বয়সী দুই অসাধারণ সুন্দরী মেয়ে। একটা বড় প্যান্ডেল থেকে তাদের পিছু পিছুই একটা একটু ছোট পুজো মন্ডপে এলাম তাদের জুতোর দিকে তাকাতে তাকাতে! দূপুরে এখানে ভিড় নেই। মেয়ে দুটো মোবাইলে প্যান্ডেলের ফটো তুলছিল। আমি সাহস করে তাদের ঠিক পায়ের কাছে হাঁটুগেড়ে বসলাম দূর্গা প্রতিমার দিকে মুখ করে। আমার লক্ষ্য মেয়েদুটোর একদম পা ঘেসে মাথা রেখে মা দূর্গাকে প্রনাম নিবেদন করার অজুহাতে ওদের প্রনাম করা। আমি যখন প্লান করছি তখন ওদের মুখ আমাদের দিকে। কিন্তু আমি হাঁটু গেড়ে বসতে বসতে ওদের মুখ আমার ডান দিকে চলে গেল, আর সেদিকের কয়েকটা ফটো নিল মোবাইলে ( বা হয়ত সেলফি)। আমি ভেবেছিলাম আমাদের এভাবে ওদের অত কাছে হাঁটুগেড়ে বসতে দেখে ওরা বিষ্মিত হবে, কিন্তু সেরকম কিছুই হল না। আমি ঠিক ওদের পা ঘেঁসে দেবী দূর্গার দিকে মুখ করে মেঝেতে মাথা রাখলাম। কিন্তু মেয়েটা ততক্ষনে আমার দিকে পিছন ঘুরে ঠাকুরের দিকে তাকিয়ে ফটো তুলছে। ফলে আমি সেই ফিলিংটা পেলাম না। কিন্তু ৩০ সেকেন্ড মত পরে মেয়েটা অন্যমনষ্ক হয়ে বা আমাকে লক্ষ্য না করার ফলে মন্ডপের সামনে দাঁড়ানো বান্ধবীর ফটো তুলতে গিয়ে এক পা পিছতে গেল। ব্যাস! ওর জুতো পরা পা সোজা আমার মাথার উপরে! মেয়েটার পা অনেকটা উচুতে আমার মাথার উপরে পরার ফলে ওর ব্যালেন্স হারানোর দশা হল। ফলে ও বাধ্য হল জুতো পরা ডান পায়ের পুরো ভর আমার মাথার উপরে রেখে ব্যালেন্স সামলানোর চেষ্টা করতে। কিন্তু পুরো সফল হল না। ওর জুতো পরা বাঁ পা এসে পরল শাষ্টাঙ্গে প্রনামরত আমার পিঠে। তারপরে কোনরকমে ব্যালেন্স সামলে দাঁড়াল মেয়েটি। ওর বান্ধবী তখন ঘটনা দেখে হেসে কুটোপাটি! আমাকে জুতোর তলায় মাড়ানো মেয়েটি রাগ দেখিয়ে বলল, " এভাবে কে পুজোর প্যান্ডেলে প্রনাম করে? যত্তসব ইডিয়ট লোক!" আমি একটু উঠে হাটুগেড়ে বসা অবস্থায় বললাম " সরি ম্যাডাম। আপনার লাগেনি তো বেশি?" মেয়েটি আশা করেছিল আমি ওকে কিছু খারাপ কথা বলব। তার বদলে এভাবে ওর দিকে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে দেখে অবাকই হল। তারপরে বলল, " নাহ, its ok!" ওর বান্ধবী তখনো হেসেই যাচ্ছে! মেয়ে দুটো প্যান্ডেল থেকে বেরনোর সময় শুনি আমাকে মাড়ানো মেয়েটি বলছে " আমি খেয়াল করিনি, সোজা ওর মাথায় জুতো পরা পা তুলে দিয়েছি, বিরাট ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম বিরাট গালি দেবে!" " ও তো উলটে তোর কাছে ক্ষমা চাইল রিশা ।" - অন্য মেয়েটা বলল। কিন্তু এরপরে ওরা একটু দূরে চলে যাওয়ায় রিশা কি উত্তর দিল পুরোটা শুনতে পেলাম না। আমি আর আমার বন্ধু এবার আরেকটু বেশি দূরত্ব রেখে ওদের পিছু নেব ঠিক করলাম।