Monday, 21 September 2026

Next Story

পরবর্তী গল্প (2026 এর) october এ আসবে। চেষ্টা করব প্রতি মাসে একটি করে গল্প পোস্ট করার। এই ব্লগের পুরনো কোন গল্প কন্টিনিউ হতে দেখতে চাইলে কমেন্ট বা মেল করে জানাতে পারেন। নিজের লেখা গল্প পোস্ট করতে চাইলে etaami11@gmail.com এ mail করবেন।

দিশা ২..

দিশা, পার্ট ২.. আমি প্রায় ছুটে ১ মিনিটের মধ্যে পৌলমীর কেবিনে পৌছালাম।পৌলমীর টিমে এখন মোট চার জন মেম্বার,পৌলমী আর দিশা ছাড়া রিপন ও মলয় নামে দুজন ছেলে আছে। পৌলমী আর দিশা একই কেবিনে বসে, এখন দিশা না থাকায় পৌলমী কেবিনে একাই ছিল। আমি রুমে নক করে " may i come in please" বলতেই পৌলমী হেসে বলল " এসো অনিদা। তুমি এমনভাবে পারমিশান চাইছ যেন আমি তোমার সিনিয়ার আর তুমি দিশার মত সদ্য জয়েন করা জুনিয়ার!" আমি বললাম " আসলে.. আমি না বুঝে দিশাকে অন্য কাজে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন ওর পেন্ডিং কাজ করতে এসেছি, ওর রিপ্লেসমেন্টে। তাই টেকনিকালি আমি সিনিয়ার ম্যাডামকেই রিপোর্ট করছি!" পৌলমী হাসি চাপা দিয়ে বলে তোমার মাথা খারাপ আছে অনিদা। সদ্য জয়েন করা দিশা একদিনও আমাকে আপনি বা ম্যডাম বলেনি, সোজা দিদি আর তুমিতে চলে গেছে। আর তুমি এত সিনিয়ার হয়ে এরকম বিহেভ করছ। যাই হোক, আমি তোমার মত না, সিনিয়ার জুনিয়ার কেউই আমাকে ম্যাডাম বললে আমার খারাপ লাগে না "(পৌলমী জয়েন করার পরে প্রথম দিকে আমাকে আপনি আর স্যার করেই বলত। আমিই ওকে রিকোয়েস্ট করে অনিদা আর তুমিতে নামিয়েছিলাম)। "কি রিপোর্ট বাকি আছে প্লিজ একটু দেখিয়ে দেবে?" পৌলমী গলায় কৌতুক ফুটিয়ে বলল " কই, তুমি না নতুন জয়েন করা ফ্রেশারের রিপ্লেসমেন্ট। আমাকে আপনি আর ম্যাডাম করে বলবে বললে যে!" পৌলমীর বয়স এই ২৪-২৫ হবে,, গায়ের রঙ মাঝারী হলেও বেশ সুন্দরী। মজা করে করলেও ওর এই ডমিনেশান আমার বেশ ভাল লাগল। আমি বললাম " সরি ম্যাডাম। কি প্রজেক্ট বাকি আছে প্লিজ যদি আমাকে একটু বলে দেন kindly তাহলে খুব ভাল হয়।" পৌলমী relaxed গলায় বলল " chill. যা কাজ বাকি আছে সেটা করতে দিশার ২ ঘন্টা লাগলেও তোমার ২০-২৫ মিনিটের বেশি লাগবে না।" - এই বলে পৌলমী desktop খুলে আমাকে ফাইল টা দেখিয়ে কি করতে হবে বলে দিল। আমি পাশের টেবিলে দিশার desktop open করতে গিয়ে দেখি password দেওয়া। দিশাকে ফোন করলাম password এর জন্য, কিন্তু সে ফোন তুলল না। whatsapp এও password চেয়ে মেসেজ করলাম, কিন্তু সেটা ও seen ও করল না, রিপ্লাই দেওয়া তো দূর। কয়েকটা কেবিন পরেই আমার রুম। আমি তাই নিজের রুমে এসে নিজের laptop টা নিয়ে পৌলমীর রুমে ফিরে এলাম। পৌলমী আমাকে laptop আনতে দেখে বলল " কি ব্যাপার, অনিদা? laptop নিয়ে এলে কেন দিশার desktop থেকে না করে?" তারপরেই কিছু একটা ভেবে ও বলে উঠল " ওহ, দিশা তো এমনভাবে নিজের office desktop এ password দিয়ে রাখে যেন এটা ওর personal belonging. আজ ও ফিরুক, আমার কাছে খুব ঝাড় খাবে।" আমি ততক্ষনে অফিসের মেঝেতেই বসে পরেছিলাম ল্যাপটপ নিয়ে, কারণ দিশার চেয়ারে ওর ব্যাগ ও বিভিন্ন জিনিস ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা। আমি সেই অবস্থায় হাত বাড়িয়ে পৌলমীর জুতো পরা পা দুটোর উপরে হাত রেখে বললাম " আমার কোন অসুবিধা হয়নি পৌলমী। প্লিজ, এর জন্য ওকে বকো না। না বুঝে আর ওর pending কাজ না শুনে ওকে অন্য কাজ দেওয়াটা আমারই ভুল হয়েছে। এই নিয়ে বেশি ঝামেলা হলে আমার বিরুদ্ধেই কম্পলেন যাবে। প্লিজ, আমার অনুরোধ টা একটু রেখো। প্লিজ।" আমি আশা করেছিলাম পৌলমী পা সরিয়ে নেবে। তা না করে মুচকি হেসে বলল, " কাজ শেষ না হওয়া অবধি আমাকে ম্যাডাম করে বলবে বলেছিলে আর আমি তোমাকে জুনিয়ার ফ্রেশারের মত ট্রিট করব কথা ছিল যে?" " সরি ম্যাম" - এই বলে আমি হালকা করে ওর দুই জুতো পরা পায়ে হাত রেখে সেই হাত কপালে ছোয়ালাম। জুতো পরা পায়ে মাথা রাখার ইচ্ছা হলেও সাহস হল না। " আচ্ছা, সত্যি করে বল তো, দিশাকে তুই সত্যি কোন কাজ দিয়েছিস, নাকি ও তোকে ভুল বুঝিয়ে কোথাও বসে relax করছে? দিশার যা স্বভাব, আর তুই যেরকম push over, তাতে সেটাই হয়েছে মনে হচ্ছে।" পৌলমীকে সরাসরি মিথ্যা বলতে ইচ্ছা করল না। আমি বললাম " ম্যাম, কাজটা আগে সেরে নিয়ে কথা বলি প্লিজ! ৩ টের মধ্যে শেষ করতে হবে তো কাজটা।" " সে ৩ টের মধ্যে কাজ শেষ নাহলে তুই ঝাড় খাবি, আমার কি?" এই বলে হেসে পৌলমী বলল " কাজ শেষ হলেই তো তুই আবার ফ্রেশার থেকে আমার সিনিয়ার হয়ে যাবি। এত সিনিয়ার একজন আমাকে ম্যাডাম আর আপনি করে বলছে, পায়ের কাছে বসে কাজ করছে, পা ধরে ক্ষমা চাইছে এরকম অভিজ্ঞতা জীবনে একবারই হয়, তাও ভাগ্য ভাল হলে!" " আপনি যদি চান আমি সবসময় আপনাকে এভাবেই রেস্পেক্ট করব ম্যাডাম।" আমি বলি। পৌলমী কয়েক সেকেন্ড ভেবে বলল, " নাহ, থাক। সেটা ভাল দেখায় না। তবে আমি কথা দিলাম তোকে, তুই কাজটা ঠিক সময়ে শেষ করে দিলে দিশাকে আমি বকবো না।" " thank you madam" বলে আমি কাজে মন দিলাম। Report টা submit করে laptop e দেখি ২.৩২ বাজে। আমি আস্তে করে পৌলমীকে ডাকলাম, " ম্যাম, কাজ শেষ।" কিন্তু ও উত্তর না দিল না। আমি দুবার পরপর ডেকেও সারা না পেয়ে ওর কালো স্নিকার্সের উপর হাত দিয়ে " ম্যাডাম!" বলে ডাকতেই দেখি পৌলমী ডেস্কে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে! আমি বুঝতে পারলাম আমার সাবমিসিভ স্বভাবের জন্য ও এতই রিল্যাক্সড ফিল করেছে যে আমার সামনেই ডেস্কে মাথা রেখে শোওয়ার আগে একবারও ভাবেনি, বিশেষ করে যখন আমি সিনিয়ার হয়ে ওদের টিমের কাজ করে দিচ্ছি আর ও কিছুই করছে না। অধিকাংশ সিনিয়ারই এরকম ক্ষেত্রে খুব রেগে যেত বা কম্পলেন করে বসত। আমি এর উলটো রিএকশান দিলাম। আমি নিজের মাথাটা ওর জুতো পরা পায়ের উপরে রেখে হালকা করে ঘসতে ঘসতে বারবার ওকে " ম্যাডাম" বলে ডাকতে লাগলাম। ফোন হালকা ভাইব্রেট হতে বুঝলাম whats app e massage ঢুকেছে, কিন্তু সেই মুহুর্তে এই দারুন মুহুর্ত ছেড়ে massage check করতে ইচ্ছা করল না। এক মিনিট পরেও ওর ঘুম ভাঙল না। আমি সাহস করে ওর জুতোর উপরে হালকা হালকা চুম্বন করতে লাগলাম, তবু ও উঠল না। আমি বুঝলাম দুপুরে ভাত খেয়ে অনেকেরই ঘুম পায়, আর সেরকম কোন কাজ না থাকায় হালকা ১-২ মিনিট রেস্ট করবে ভেবে ও অজান্তেই ঘুমিয়ে পরেছে। নাহলে পৌলমী খুব কাজের না হলেও average employee এর মত responsibility ওর আছে, ও দিশার মত নয়। কিন্তু এই ঘটনা আমার ভালই লাগল। আমি ওর জুতো পরা পা দুটো হাতের তালুতে তুলে নিয়ে ওর জুতোর উপরে হাল্কা করে চুম্বন করে ওকে মৃদুস্বরে ডাকতে লাগলাম। আমি চাইছিলাম এই ঘটনা যতটা সম্ভব সময় ধরে হোক, আমার এতই ভাল লাগছিল। একেই পৌলমী নিজেই রিপোর্ট কম্পলিট না হওয়া পর্যন্ত আমার সিনিয়ার ম্যাডাম হওয়ার রোল প্লে করা শুরু করেছিল মজা করে, তার উপরে আমি যখন কাজ করছি তখন ও দিব্বি টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পরেছে। তাই ওর রিএকশান যাই হোক, ও কোন কম্পলেন করবে না আমি নিশ্চিত ছিলাম! আমার দুই হাতের তালুতে পৌলমীর জুতো পরা পা দুটো রাখা। আমি ওর জুতো পরা দুই পায়ের উপরে মাথা রেখে শাস্টাঙ্গে উপুড় হয়ে মেঝেতে শুয়ে ওর দুই জুতোর উপরে হালকা চুম্বন করতে করতে ওকে খুব মৃদু স্বরে " ম্যাডাম" বলে ডাকছি, কিন্তু মনে মনে চাইছি পৌলমী আরো কয়েক মিনিট ঘুমাক। আরো কয়েক মিনিট স্থায়ী হোক এই অসাধারণ মুহুর্ত। যদিও আমি জানি এই কাজে কতটা রিস্ক। পৌলমীর ঘুম ভেঙে গেলে ও অবাক হয়ে যাবে ঠিকই কিন্তু, ওর রিএকশানের বেশি বড় সমস্যা কিছু হবে না। কিন্তু যদি এই মুহুর্তে হঠাত রুমের দরজা দিয়ে কেউ ঢোকে? আমি যে পৌলমীর জুতো পরা পায়ের উপরে মাথা রেখে শুয়ে সেটা হঠাত কেউ রুমের দরজা ঠেলে ঢোকা মাত্র তার চোখে পরবে। কিন্তু অন্যের কেবিনে নক না করে কেউ সাধারণত ঢোকে না, মেয়েদের কেবিন হলে তো একদমই না। এটাই যা ভরসা। নাহলে এই অবস্থায় আমাকে কেউ দেখলে আমার কি ভবিষ্যত ঈশ্বরই জানেন! আমি বোধহয় এইভাবে পৌলমীর জুতো পরা পায়ের উপরে মাথা রেখে ওর জুতোর উপরে চুম্বন করতে করতে প্রায় ৩-৪ মিনিট কাটিয়ে দিয়েছিলাম। পৌলমী তখনো একইভাবে ঘুমাচ্ছে আর আমি ওর প্রতি আমার ভক্তি দেখিয়ে চলেছি ওর দুই জুতো পরা পা চুম্বনে চুম্বনে ভরিয়ে দিতে দিতে। তখন হঠাতই ঘটল সেই ঘটনা। না, রুমে কেউ নক করল না। বরং হঠাত রুমের দরজা খুলে গেল। আমি তাকিয়ে দেখি দিশা- কিছুটা অবাক চোখে আমার আর পৌলমীর দিকে তাকিয়ে গলায় কিছুটা বিষ্ময় ফুটিয়ে বলল " what the f**k! হচ্ছেটা কি এখানে?" আমি দিশাকে explain করার চেষ্টা করতে গেলাম, কিন্তু আমি এতটা ঘাবড়ে ছিলাম যে কি বলব বুঝতে পারলাম না। যদিও আমি এক ঘন্টা আগেই দিশাকে যেভাবে ট্রিট করেছি তাতে ওর অন্তত আমাকে এই পজিশানে দেখে এত অবাক হওয়ার কিছু নেই। ওদিকে দেখি পৌলমী আড়মোড়া দিয়ে ঘুম থেকে উঠে দিশা আর আমার দিকে তাকাচ্ছে। আমি তখন উঠে মেঝেতে বসেছি, আমার হাত দুটো পৌলমীর জুতোর তলা থেকে বার করলেও ওর জুতোর উপরেই হালকা করে রাখা। দিশা বলল, " অনিদা, তোমার দেওয়া কাজ শেষ করে মোবাইল খুলে দেখি তুমি আমার desktop এর password চেয়েছ, আমি immediate reply করতেও দেখি massage not seen. আমার report জমা দেওয়ার deadline 3pm, তাই আমি immediate আমার কেবিনে ফিরে এসে দেখি তুমি কাজ না করে, আমার মেসেজ সিন না করে পৌলমীদির পায়ে মাথা রেখে ক্ষমা চাইছ। কেস কি?" পৌলমী তখনো বুঝতে পারছিল না ঠিক কি হয়েছে। একবার দিশার দিকে তাকিয়ে বলল, " কি হয়েছে?" - যদিও ওর বোঝার কথা ওর সিনিয়ার অনিদার ওর পায়ের কাছে ওর জুতো পরা পায়ে হাত রেখে বসে থাকা অস্বাভাবিক ( ওর জুতোয় চুমু খাওয়া অবস্থায় ও আমাকে দেখেনি, তখন ও ঘুমাচ্ছিল)। তারপরেই ও আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল " রিপোর্ট রেডি অনি?" আমি রিপ্লাই দিলাম " হ্যাঁ, পৌলমী ম্যাডাম।" দিশা ততক্ষনে ওর চেয়ারের জিনিস নিজের টেবিলে তুলে দিয়ে চেয়ারে বসে পরেছে। আমাদের দুজনের দিকেই জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভুরু নাচিয়ে দিশা বলল " অনি আর পৌলমী ম্যাডাম! role reversal! Whats going on guys!" পৌলমী বলল " অনিদা তো নিজের কাজ করছিল না, তোর মানে একজন ফ্রেশার্সের রিপ্লেসমেন্টে এসেছিল। তাই আমি ওকে সেভাবেই ট্রিট করছিলাম যেভাবে একজন ফ্রেশারকে আমার মত সিমিয়ার কারো করার কথা - till that work is done। আর অনিদাও সেই জন্য আমাকে madam বলেই reply করছিল। " " I see! micro dose of power trip! Let me also check it, how does it feel!" এই বলে আমার ঠিক পিছনে নিজের revolving chair এ বসা দিশা হাসিমুখে পৌলমীর সামনেই ওর কালোর উপরে গোলাপি ডিজাইন করা স্নিকার পরা পা দুটো আমার দুই কাঁধে তুলে দিয়ে বলল " যদিও আমি জানি, এটা কিছুই না in comparison of how he was treating you- kissing your shoes to get your attention while you were taking a nap!" আমি দুহাতে দিশার জুতো পরা পা দুটো ধরে ঘুরে বসে নিজেই ওর জুতো পরা পা দুটো আবার নিজের দুই কাঁধে রেখে ওর দুই জুতোর উপরে একবার করে গাঢ় চুম্বন করে বললাম " i am sorry দিশা। আসলে আমি রিপোর্ট কম্পলিট করলেও তোমার টিমের কাউকে সেটা ভেরিফাই করে final upload করতে হবে। পৌলমী একটু ন্যাপ নিচ্ছিল, তুমিও অন্য কাজে বিজি। আমি বুঝতে পারছিলাম না আর কিভাবে ওকে ডাকব। তাছাড়া আমি যেহেতু ফ্রেশার্সের রোল প্লে করছিলাম তাই এই কাজে আমার সিনিয়ার পৌলমীর পা জড়িয়ে ধরে ডাকা আমার নর্মাল মনে হয়েছিল। if any of you mind, i am really sorry, আর কখনো এরকম হবে না।" পৌলমী আমার কথার মাঝেই report verify করা শুরু করেছিল। final upload করে অদ্ভুত একটা হাসি হেসে ও বলল " কাজ ফেলে দিশা এতক্ষন ফাঁকি মেরে এল, আমিও কাজ ছেড়ে হাল্কা nap নিতে গিয়ে পুরো ঘুমিয়ে পরলাম, আর সরি বলছিস তুই! অদ্ভুত ছেলে তুই অনি! anyway, রিপোর্ট শেষ, এখন থেকে তুমি আবার অনিদা!" দিশা মুচকি হেসে বলল " দেখো পৌলমীদি, তুমি শুধু আমাকে বলো, কিন্তু তুমিও কাজে ফাঁকি দাও।" তারপর আমার মুখে জুতো পরা ডান পায়ে একটা হাল্কা লাথি মেরে বলল, " আর আমি আর তুমি ওকে অনি আর তুই করে বললেই ও বোধহয় বেশি comfortable feel করে, তাই না রে অনি?" আমি আমার মুখে লাথি মারা দিশার ডান জুতোর তলায় একটা deep kiss করে বললাম " হ্যাঁ, disha madam!"

রিপা

রিপা ( written by Guest Writer) এক উত্তাল রাতে বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে ধেয়ে চলছিল এক অভিশপ্ত জাহাজ। ভালো কাজের লোভ দেখিয়ে মধ্যবয়সী সনাতনী নারী রিপা দাস এবং তাঁর সতেরো বছরের কন্যা সঞ্জিতাকে অপহরণ করে বিক্রি করতে নিয়ে যাচ্ছিল কুখ্যাত মানব পাচারকারী জাওয়াদ ও তার দুই সশস্ত্র সঙ্গী—কাশেম ও রতন। জাহাজের স্যাঁতসেঁতে স্টোররুমে মোটা দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিলেন মা-মেয়ে। কিন্তু রিপা দাসের চোখে ভয়ের বদলে জ্বলছিল আক্রোশের অনির্বাণ আগুন। সনাতন ধর্মে নারী কেবল সহনশীলতার রূপ নয়; অন্যায়ের বিরুদ্ধে সে সাক্ষাৎ মহাকালী। স্টোররুমের জং ধরা এক শিকলে ঘষে নিজের চামড়া ছিলে রক্তের বিনিময়ে বাঁধন মুক্ত হলেন রিপা দাস, মুক্ত করলেন মেয়েকেও। আজ পালানো নয়, তাঁদের লক্ষ্য ছিল অসুর সংহার। মেয়ে সঞ্জিতাকে আড়ালে রেখে রিপা দাস জং ধরা লোহার রড হাতে দাঁড়ালেন। প্রথম পাচারকারী কাশেম ভেতরে ঢোকা মাত্রই রিপা তার গলায় দড়ি পেঁচিয়ে ধরেন, আর সঞ্জিতা তার হাত থেকে খঞ্জর কেড়ে নিয়ে পেটে বসিয়ে দেয়। রক্তে ভেসে যায় মেঝের কাঠ। দ্বিতীয় পাচারকারী রতন খোঁজ নিতে এলে সঞ্জিতা লোহার রড দিয়ে তার পায়ের রগে আঘাত করে এবং রিপা দাস খঞ্জর দিয়ে তার শ্বাসনালী ছিঁড়ে ফেলেন। রতনের কঙ্কালসার বীভৎস লাশের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা রক্তাক্ত সঞ্জিতাকে দেখে রিপা দাস স্তব্ধ হয়ে যান। পরম মমতায় মেয়ের হাত ধরে তিনি বলেন, "লজ্জা পাচ্ছিস কেন মা? তুই তো পাপের বুক চিরে দাঁড়িয়েছিস, এ তো তোর সাক্ষাৎ রণচণ্ডীর রূপ!" এবার মূল কালসাপ জাওয়াদকে বধ করার পালা। সঞ্জিতা লোহার রড দিয়ে জেনারেটরের প্যানেল পিটিয়ে নষ্ট করে দিলে পুরো জাহাজে জমাট অন্ধকার নেমে আসে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পিস্তল ও টর্চ নিয়ে করিডোরে বেরিয়ে আসে জাওয়াদ। কিন্তু অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পেছন থেকে সঞ্জিতা রড দিয়ে আঘাত করে তার হাতের পিস্তল ফেলে দেয়। সামনে থেকে রিপা দাস রামদার উল্টো পিঠ দিয়ে আঘাত করে জাওয়াদের দুই হাঁটু ভেঙে দেন। এরপর জাওয়াদকে দড়ি দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেন মা-মেয়ে। একসময়ের প্রতাপশালী জাওয়াদ রক্তে ভেসে মা-মেয়ের পায়ে পড়ে প্রাণের আকুতি জানায়, কোটি টাকার লোভ দেখায়। সঞ্জিতা তার গালে লাথি কষে বলে, "তুই ভেবেছিলিস আমরা অবলা? আজ তোর সব পাপের হিসাব এই সমুদ্রের বুকেই হবে!" রিপা দাস জাওয়াদের চুলের মুঠি ধরে মাথা উঁচিয়ে গর্জে ওঠেন, "নারীর সম্মান বিক্রি করা টাকায় তোর জীবন বাঁচবে না জাওয়াদ! তোদের মতো নরপশুদের জন্য কোনো দয়া থাকে না—থাকে কেবল মহাকালের সংহার!" সঞ্জিতা জাওয়াদের পা শক্ত করে চেপে ধরে। রিপা দাস জাওয়াদের গলায় রামদা বসিয়ে বিকট শব্দে চিৎকার করে ওঠেন—"জয় মা কালী!" রামদার সজোড় কোপে কেটে ফাঁক হয়ে যায় জাওয়াদের গলা। কয়েক সেকেন্ড ছটফট করে রক্তগঙ্গায় নিথর হয়ে পড়ে থাকে নরপশুর দেহ। সংহার শেষে জাওয়াদের তরতাজা রক্তে আঙুল ডুবিয়ে সঞ্জিতার কপালে রক্তিম বিজয় তিলক এঁকে দেন রিপা দাস। পরম দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, "নারী যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র তোলে, সে আর কারও দয়ার পাত্রী থাকে না—সে সাক্ষাৎ মহাকালী।" রাতের অন্ধকার ভেদ করে পূর্ব আকাশে উদয় হয় এক রক্তিম দীপ্তিময় সূর্য। সমুদ্রের বুকে ফুটে ওঠে সনাতনী নারীশক্তির এক অমর ও বিজয়ী প্রতীক।

Tuesday, 1 September 2026

ধানগড়

ধানগড়!! পরপর ৩ টে গাড়ি এসে ধানগড়ে ঢোকার রাস্তার মুখে এসে দাঁড়াতে মাঝের গাড়ি থেকে জুহি যা দেখল তার জন্য সে প্রস্তুত ছিল না। জুহি একজন অভিনেত্রী। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই সে বহু সিনেমায় কাজ করে ফেলেছে। অন্য নায়িকাদের মত হিরোদের সাথে নাচা-গানা-প্রেম করার মত সিনেমা সে কমই করেছে। সে মূলত অভিনয় করেছে super-women বা কোন দেবীর চরিত্রে। অথবা দাপুটে পুলিশের ভুমিকায়। বাংলায় সে অন্যতম বিখ্যাত নায়িকা। সে আগেও শুনেছিল ধানগড়ে তার অসম্ভব জনপ্রিয়তা। তাই বলে এইভাবে হঠাত যে ধানগড় থেকে ভোটে দাঁড়ানোর প্রস্তাব পাবে সে, তাও আবার rulling party এর কাছ থেকে, সেটা সে আশা করে নি। এলাকার হাল খারাপ সে আগেও শুনেছিল। আসার সময়ে দেখতে পেয়েছে কতটা খারাপ অবস্থা। ধানগড় বিধানসভা রাজধানী থেকে প্রায় ১৫০ কিমি দূরে। রাস্তার অবস্থা সব জায়গায় বেহাল হলেও ধানগড় বিধানসভায় ঢোকার পর থেকেই সে দেখতে পাচ্ছে রাস্তা প্রায় চষা মাঠ হয়ে গেছে। এলাকার সবচেয়ে বড় ও জনবহুল গ্রাম ধানগড়ে ঢোকার আগে এই এলাকার যে কটা সরকারী স্কুল-অফিস-হাসপাতাল সে দেখেছে সব গুলোরই বেহাল দশা। সে বুঝতে পারছে তার জনপ্রিয়তায় ভর করে এই ব্যার্থতা ঢেকে ভোটে জিততে চাইছে শাসক দল। ভোটে যেতার জন্য বাকি নেতারা যে অভিনয় করে সেসব তার দ্বারা হবে না সে প্রথম দিনই পরিষ্কার করে দিয়েছিল। ছোট থেকে সে বড় হয়েছে privileged & entitled ভাবে, পরিবার ও পাড়া প্রতিবেশির কাছে princess treatment পেয়ে। সেই জন্যই রোমান্টিক সিনেমার নায়িকা হয়ে ন্যাকামো করাও তার তেমন সহ্য হয় না। সে এমন রোলই করে এসেছে যেখানে পৃথিবী তার কথায় চলে। তার P.A. ইশা খোজ নিয়ে তাকে বলেছিল এই এলাকায় তার জনপ্রিয়তা প্রায় ভগবানের মত, সে ভোটে দাড়ালেই জিতবে। অন্য নেতাদের মত নাটক করা, হাতজোড় করে "আমাকে আপনাদের সেবা করতে দিন" বলে অনুরোধ করার কোন দরকার নেই। তার সাধারণ মানুষের সাথে হাত মেলাতে ঘেন্না লাগে, তাতেও কোন সমস্যা নেই। শুধু সাধারণ মানুষ ভক্তিভরে তার জুতো পরা পায়ে মাথা ঠেকালে সেটা স্বাভাবিক ভাবে নিলেই হল! গাড়ি ধানগড় গ্রামে ঢোকার পরে জুহি বুঝল ইশা কথাটা কেন বলেছিল! গ্রামে ঢোকার রাস্তার দুপাশে কয়েকশো লোক রাস্তার ঠিক পাশে নতজানু হয়ে মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে তাকে প্রনাম করছে! এই গ্রামে ঢুকে তার ছোট একটা সভা করার কথা। আর গ্রামের এক মন্দির দর্শন করা। সে অবশ্য আগেই বলে রেখেছিল তার মনে ভক্তি টক্তি কিছু নেই, মন্দিরে জুতো খুলে ঢুকে শাস্টাঙ্গে প্রণাম করা এসব সে করতে পারবে না। ইশা তাকে আশ্বস্ত করেছিল তাকে এখানে কোন নাটক করতে হবে না। গ্রামের রাস্তার দুদিকে অসংখ্য লোক রাস্তার দিকে নতজানু হয়ে তাকে এমন ভাবে প্রণাম করছে যেন সে ভগবান! দেখে তার অদ্ভুত এক ভাল লাগছিল। কিন্তু গ্রামে ঢোকার পরে ১ কিমি যেতে না যেতেই রাস্তার এত বেহাল দশা হল যে গাড়ি করে আর যাওয়া সম্ভব নয়। একে রাস্তা চষা মাঠ হয়ে আছে, তার উপরে রাস্তার পুরোটাই ৬ ইঞ্চি থেকে ১ ফুট জলের তলায়। গাড়ি থামতে একজন লোকাল পার্টির লোক বিনীত কন্ঠে বলল " ম্যাডাম, এখান থেকে মন্দির আর সভার মাঠ ২ কিমি মত দূর হবে। আপনি চাইলে যেটুকু রাস্তা ভাল আছে তার উপর দিয়ে বাইক করে নিয়ে যাওয়া যায় আপনাদের। নাহলে পাশের গ্রামের একজনের ঘোড়া আছে। তার থেকে আপনার জন্য জোগাড় করে এনে দিতে পারি। কিন্তু অপেক্ষা করতে হবে এক ঘন্টা মত। আসলে আজ সকালে হঠাত খুব বৃষ্টি হওয়ায় জল জমে রাস্তা আরো খারাপ হয়ে গেছে। সরি ম্যাডাম।" জুহি একটু ভেবে বলল " এর কোনটাই আমার ভাল লাগছে না। আমি ফিরে যেতাম, শুধু এই এলাকার লোক রাস্তার দুপাশে শাস্টাঙ্গে শুয়ে আমাকে যেভাবে প্রণাম করছে সেই জন্যই থাকতে ইচ্ছা করছে।" ইশা পাশ থেকে বলল " জুহিদি,তুমি চাইলে এইটুকু হেঁটেও যেতে পারো। একজন তোমার মাথায় ছাতা ধরবে, একজন হাওয়া করবে পাশ থেকে। পথের দুপাশে লোকে শুয়ে তোমাকে প্রণাম করবে এভাবে। তোমার নিজেকে আগের আমলের রাণীর মত ফিল হবে। যেটা তোমার এটিচিউড আর ইমেজের পক্ষে একদম পার্ফেক্ট।" জুহি কয়েক সেকেন্ড ভেবে বলল - " সেটা তুই ঠিক বলেছিস ইশা। কিন্তু এই জমা জলে পা ডুবিয়ে আমি যেতে পারব না, সেটা আমার ইমেজের সাথেও যায় না।" পাশ থেকে পার্টির সেই লোকাল লোকটি সাথে সাথে বলল - " আপনাকে জমা জলে পা ফেলতে হবে কেন ম্যাডাম? আপনার এত অগুন্তি ভক্ত থাকতে? আমি এখুনি সব ব্যাবস্থা করে ফেলছি।! ১০ মিনিটের মধ্যে এক অদ্ভুত ব্যাবস্থা রেডি হয়ে গেল। শয়ে শয়ে লোক জমা জলে ভরা রাস্তার মধ্যে শুয়ে জুহির চলার জন্য human carpet তৈরি করে ফেলল। সে তাদের গায়ের উপর দিয়ে হাঁটবে আর পাশ থেকে জলের মধ্য দিয়ে একজন বিশাল বড় হাতপাখা নিয়ে তাকে হাওয়া করতে করতে যাবে। তার মাথার উপরে বিরাট এক ছাতা ধরবে একজন। জুহির গাড়ির দরজা একজন খুলে ধরতে জুহি সোজা তার এক ভক্তের বুকের উপরে জুতো পরা পায়ে নেমে দাঁড়াল। পাশ থেকে একজন তাকে হাওয়া করছে, আরেকজন তার মাথায় ছাতা ধরেছে। দামী ব্রান্ডের কালো আর গোলাপী মেশানো স্নিকার্স পরা পায়ে ভক্তদের বুকের উপর দিয়ে ৭-৮ পা হেঁটে যাওয়ার সময়ে তার মনে হল সে কোন পুরাণের গল্পে রাণীর চরিত্রে অভিনয় করছে! কিন্তু ইশাকে ছাড়া শুধু অচেনা লোকেদের সাথে এতটা সময় কাটাতে হবে সেটা তার ভাল লাগল না। সে পিছন ফিরে ইশাকে ডাকল। কিন্তু পুরো রাস্তা জলে ভরা। ইশা যাবে কি করে? পার্টির সেই লোকাল লোক আবার পথ দেখাল। ইশাকে বলল -" ইশা ম্যাডাম! আপনিও জুহি ম্যডামের মত human carpet use করুন। আপনি ওদের chest এর উপর দিয়ে যান। জুহি ম্যাডাম ওদের মুখের উপর দিয়ে যাক। আপনাদের ঠিক পাশ থেকে একজন ছাতা ধরবে, আরেকজন হাওয়া করবে। আপনাদের কোন অসুবিধা হবে না।" তাই হল। এতজন মানুষের বুকের উপর দিয়ে সাদা স্নিকার্স পরা পায়ে হেঁটে যেতে যেতে ইশার নিজেকে কিরকম দেবী দেবী ফিল হচ্ছিল! সে ভেবে পেল না লোকেদের মুখের উপর জুতো পরা পা রেখে হেঁটে ২ কিমি পথ যেতে জুহির কেমন লাগবে? আর পথ শেষে মন্দিরে গিয়ে জুহি যখন দেখবে এই গ্রামের মানুষ নায়িকা জুহিকে দেবী বানিয়ে গত কয়েক বছর ধরে তাকেই দেবী জ্ঞানে পুজো করছে তখন তার কেমন লাগবে! জুহির মনে হচ্ছিল সে বুঝি স্বপ্ন দেখছে! নায়িকা হিসাবে মানুষের অতিরিক্ত সম্মান পেতে সে অভ্যস্ত। শুটিং প্লেসে তার পা জড়িয়ে ধরেছে কোন ভক্ত এরকম অন্তত একশোবার হয়েছে তার জীবনে। তাই বলে লোকের মুখের উপরে জুতো পরা পায়ে হেঁটে ভোটের প্রচার করতে যাওয়া, যেন সে রাজ্যের রাণী বা স্বয়ং স্বর্গের দেবী- এই গণতন্ত্রের যুগে? যেখানে বাকি নেতারা সারা বছর কিছু না করলেও ভোটের সময়ে হাতজোর করে প্রচার করতে বাধ্য হয়? নিজেকে সত্যিই very special মনে হচ্ছিল জুহির। সে একের পর এক পা ফেলে গ্রামের ভিতরে এগিয়ে যাচ্ছিল - তার প্রতিটা step ছাপ ফেলে দিচ্ছিল তার কোন এক অচেনা গ্রাম্য ভক্তের মুখে! পাশ থেকে একজন তার মাথায় ছাতা ধরেছিল, আরেকজন হাতপাখায় হাওয়া করে যাচ্ছিল। আর বহু লোক পাশ থেকে নতজানু হয়ে তাদের দিকে পুষ্প বৃষ্টি করতে করতে বলছিল - " হে দেবী, আমাদের আপনার সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ! আমাদের রাস্তা- স্কুল - হাসপাতাল- সরকারী সুবিধা কিচ্ছু লাগবে না। শুধু আপনার সেবক হয়ে আপনার সেবা করার সুযোগ দিন আমাদের। তাতেই আমরা খুশি!"