Tuesday, 1 September 2026

Next Story

পরবর্তী গল্প (2026 এর) october এ আসবে। চেষ্টা করব প্রতি মাসে একটি করে গল্প পোস্ট করার। এই ব্লগের পুরনো কোন গল্প কন্টিনিউ হতে দেখতে চাইলে কমেন্ট বা মেল করে জানাতে পারেন। নিজের লেখা গল্প পোস্ট করতে চাইলে etaami11@gmail.com এ mail করবেন।

জিয়া

( dramatised version of a train experience. Less femdom and more drama).. আরেকটা ট্রেনের অভিজ্ঞতা। কিছুদিন আগে আবার কোলকাতার চক্ররেলে যাচ্ছিলাম। ট্রেনে উঠে দেখি বেশ ফাঁকা ট্রেন। দুই কমবয়সী সুন্দরী মেয়ে ট্রেনের জানালার ধারের দুই সিটে মুখোমুখি বসে গল্প করছে। বয়স ১৮-১৯ এর মধ্যেই। আমি তাদের একজনের পাশের সিটে এসে বসলাম। উল্টোদিকে জানালার ধারে শুধু এক বয়স্ক লোক বসে। বাকি আর কেউ নেই। মেয়ে দুজন হকারের থেকে পাপড়ভাজা কিনে খাচ্ছিল। একটু পরে একটা মেয়ে অন্যজনকে বাই বলে ট্রেনের দরজার দিকে এগিয়ে গেল তার হাতের পাপড়ভাজার প্যাকেটের খালি প্লাস্টিকটা ট্রেনের মেঝেতে ফেলে দিয়ে। উল্টোদিকের বয়স্ক লোকটা ভুরু কুঁচকে দেখল। তারপর অধিকাংশ বয়স্কলোকের স্বভাবমত জ্ঞান দিতে এল " এভাবে ট্রেনের কামড়া নোংরা করছ কেন? সিভিক সেন্স নেই যে এভাবে ট্রেন নোংরা করতে নেই? ওটা তুলে বাইরে ফেল।" ভালভাবে বললে মেয়েটা কি করত জানি না। কিন্তু বয়স্ক লোকটা খুব rude ভাবে বলেছিল। মেয়েটা ট্রেনের গেটের সামনে থেকে বলল " ওসব জ্ঞান নিজের নাতিপুতিকে দাও দাদু। আমার লাগবে না!" দাদু রেগে রিপ্লাই দিচ্ছিল। তারমধ্যেই পরের স্টেশান চলে আসায় মেয়েটা তার বান্ধবীকে " বাই জিয়া" বলে নেমে গেল। বুড়োটা ওর বান্ধবী জিয়ার দিকে তাকিয়ে গজগজ করতে লাগল। জিয়া ওর বান্ধবীকে " বাই মৌ" বলে ইচ্ছা করেই মুখে হাসি ঝুলিয়ে নিজের সদ্য শেষ করা পাপড়ভাজার খালি প্যাকেটটাও ট্রেনের মেঝেতে ফেলল বুড়োর চোখে চোখ রেখে। আমি ততক্ষনে মেয়েটির ঠিক উল্টোদিকের জানালার ধারের সিটটায় এসে বসেছি, যেটায় একটু আগে ওর বান্ধবী বসে ছিল। মেয়েটির এই রিএকশানে বুড়ো তেলে বেগুণে জ্বলে উঠল। রাগে গজগজ করতে করতে এবার আমার দিকে তাকিয়ে বলল " এযুগের মেয়েদের হাবভাব দেখো। যেন ওদের বাপের ট্রেন! " জিয়া বুড়োকে রাগানোর জন্য বলল " ট্রেনের মেঝে পরিষ্কার করা আমাদের কাজ না দাদু। তোমার ইচ্ছা হলে তুমি প্যাকেট দুটো তুলে ফেলে দিতে পার। আমি বাধা দেব না!" বুড়ো রেগে বোম হয়ে গেল মেয়েটার কথা শুনে! " এই ছুড়ি, আমি তোর বাপের বয়সী! বয়ষ্কদের কিভাবে সম্মান দিতে হয় তোর বাপ মা শেখায় নি?" " শিং ভেঙে বাছুর হচ্ছ দাদু? তুমি আমার বাবার বয়সী কি, আমার দাদুর চেয়েও বুড়ো! এত রাগ দেখিও না, হার্ট এটাক করবে!" বুড়ো রাগে অন্ধ হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল " তোমার সামনে এই মেয়ে দুটো তখন থেকে আমাকে অপমান করে যাচ্ছে, তুমি কিছু বলছ না কেন?" আমি শান্ত গলায় বললাম " ও তো ঠিকই বলেছে জেঠু। এই বয়সে এসে কথায় কথায় এত রাগ দেখালে যেকোন দিন বিপদ হবে। ওই প্যাকেট আমি ফেলে দিচ্ছি।" এই বলে আমি নিচু হলাম। আমার উল্টোদিকের মেয়েটার পরনে জিন্স আর পায়ে সাদা ক্রক্স। বাঁ পায়ের উপরে ডান পা তুলে বসে আছে মেয়েটা। ওর বাঁ পা আর ট্রেনের দেওয়ালের মাঝে পরে একটা প্যাকেট যার সামান্য একটা অংশ ওর জুতোর তলায় চাপা পরে আছে। অন্যটা প্রায় ওর ডান জুতোর তলায়। আমি নিচু হয়ে প্রথমে দেওয়ালের ধারের প্লাস্টিকটা কুড়াতে গেলাম। প্লাস্টিকের সামান্য একটা অংশ ( প্যাকেট ছেঁড়ার ফলে যেই flap টা প্রায় আলাদা হয়ে যায়) ওর জুতোর তলায় চেপে থাকায় সামান্য টানে সেটা উঠল না। অন্য সময় হলে মেয়েটি পা সরিয়ে নিত, কিন্তু বুড়োকে দেখানোর জন্যই মেয়েটি entitled attitude দেখিয়ে পা সরালো না। আমি ট্রেনের মেঝেতে একটা হাঁটুগেড়ে বসে প্রথমেই "সরি ম্যাডাম" বলে দুই হাত দিয়ে মেয়েটির জুতো পরা পা আলতো করে ধরে সামান্য সরালাম যাতে প্লাস্টিকটা জুতোর তলায় আর চাপা না থাকে। তারপর ডান হাত দিয়ে ওর জুতো পরা পা বাঁ হাতের তালুতে তুলে ডান হাত দিয়ে প্লাস্টিকটা তুললাম যখন মেয়েটির জুতো পরা বাঁ পায়ের তলা আমার বাঁ হাতের তালুর উপরে! কোড়ানো প্যাকেটটা নিজের শার্টের প্যাকেটে ঢুকিয়ে আমি এবার ডান হাত বাড়ালাম অন্য প্যাকেটটা তোলার জন্য, যেটা মেয়েটার ডান ক্রক্সের প্রায় তলায়। আমি ইচ্ছা করলেই প্যাকেটটা এবার এমনিই বার করে আনতে পারতাম। কিন্তু ইচ্ছা করেই এমন ভাব করলাম যেন এবারও প্লাস্টিকটা ওর জুতোর তলায় চেপে আছে। যদিও ওর বাঁ পায়ের উপরে তোলা ডান পায়ে পরা ক্রক্সের তলা আর প্লাস্টিকের প্যাকেটটার মধ্যে ৩-৪ ইঞ্চি দূরত্ব ছিল। আমি আবার " সরি ম্যাডাম" বলে ডান হাত দিয়ে জিয়ার ডান ক্রক্সের হিলের তলা স্পর্শ করলাম। তারপর পুরো জুতোর তলায় একবার হাত বোলালাম। একবার হাতের তালু হিল থেকে জুতোর টো অব্ধি বুলিয়ে আবার উল্টোদিকে বোলালাম। ওর জুতোর তলার পুরো ময়লা আমার হাতের তালুতে লেগে গেল। আমি আর ঝুঁকি না নিয়ে প্লাস্টিকটা কুড়িয়ে দুই হাতই মেয়েটির জুতোর নিচ থেকে বার করে এই প্যাকেটটাও নিজের জামার পকেটে ঢুকিয়ে আবার সিটে বসে বললাম " এতই সামান্য একটা ব্যাপার!" তারপর মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বললাম " কোন অসুবিধা হয়নি তো আপনার ম্যাডাম?" জিয়া ছোট করে উত্তর দিল "না", তারপরে বুড়োর দিকে তাকিয়ে বলল " দেখো দাদু! এত্ত ছোট একটা কাজ নিজেই করে নিতে পারতে! তা না করে ফালতু চেঁচিয়ে সিন ক্রিয়েট করে নিজের প্রেশার টা বাড়ালে!!" আমার আচরণ দেখে বুড়ো হাঁ হয়ে গিয়েছিল। কোন রকমে বলল " তোর জেঠু কি দাদুর বয়সী আমাকে বলছিস তোর জুতোর নিচ থেকে তোর ফেলা প্লাস্টিক বার করে ফেলতে? বলতে বাধেও না হতভাগা মেয়ে?" " বাধবে কেন বলতে? এই কাকুও তো আমার চেয়ে অনেক বড় বয়সে, তাও তো দিব্বি নিজের ইচ্ছেও করল, তোমার মত ঝামেলা না বাধিয়ে।" " ও করল কারণ ওর মান-সম্মান নেই, আর মেয়ে দেখলেই এদের নোলা ঝরে তাই! আর কোন কারণ দেখছি না নিজেকে অকারণে এভাবে ছোট করার!" - বুড়ো আবার নিজের পুরনো ফর্মে ফিরেছে ততক্ষনে! "নোলা ঝরে না দাদু, মেয়েদের সম্মান করতে জানে, তাই করেছে। বুড়ো হয়ে মরতে চললে, অথচ এটুকু বেসিক ভদ্রতা সভ্যতা শিখলে না দাদু!" - জিয়া দাদুকে ট্রোল করে বলল। আমি দুজনের ঝগড়া শুনতে শুনতে মেয়েটির জুতো পরা পা দুটোর একটা ফটো তুলে নিলাম ফোনে, যাতে আরো অনেকবার অন্তত ওর ফটোকে প্রণাম করে সম্মান দেখাতে পারি! দাদু রেগে আবার উত্তর দিতে লাগল। ট্রেন ততক্ষনে দমদমে এসে ঢুকেছে। আর একসাথে অনেক লোক ট্রেনে এসে উঠল। জিয়া বেশ কিছুক্ষন বুড়োকে তাকে গাল দিতে দিল, তারপর পাশে এসে বসা একজন বছর ৩৫ এর লোককে কম্পলেন করল " দেখুন না, এই দাদু কোন কারন ছাড়া তখন থেকে আমাকে উল্টোপাল্টা বলে যাচ্ছে!" " কোন কারণ ছাড়া হতভাগী? ট্রেনের কামড়াটায় ডাস্টবিনের মত যা ইচ্ছা ফেলবি, আমি কিছু বলতে পারব না?" - দাদু আক্রোশে চিৎকার করে বলল। জিয়া সরল বাচ্চার মত মুখ করে বলল " কি সব বলছেন দাদু? আমি আবার মেঝেতে কি ফেললাম? মেঝেতে তো কিছুই পরে নেই। আপনি দেখিয়ে দিন মেঝেতে কি ফেলেছি আমি?" " দেখাব কি? পাশের ওই লোকটা তো তোর পায়ের নিচ থেকে কুড়িয়ে ফেলে দিল ওগুলো!" মেয়েটা আবার নিষ্পাপ মুখ করে বলল, " দেখুন, পাগলের মত যা ইচ্ছা বলে যাচ্ছেন উনি তখন থেকে।" তারপর আমার দিকে আঙুল দেখিয়ে বলল " বিশ্বাস না হয় উনাকে জিজ্ঞাসা করুন!" এবার অনেক জন লোক এক এক করে মেয়েটার পক্ষ নিতে লাগল। একজন শেষে দাদুকে বলল উঠে কামড়ার অন্য দিকে গিয়ে বসতে। দাদু গজগজ করতে করতে উঠে পরের স্টেশানে ট্রেন থেকে নেমে গেল। জিয়ার মুখের হাসি দেখে বুঝলাম পুরো ঘটনাটাকে সে বেশ entertainment হিসাবেই নিয়েছে! আমি নিজে থেকেই মেয়েটিকে বললাম " আমার আগেই উচিত ছিল দাদুকে উঠে অন্যদিকে যেতে বলা। অনেকক্ষন ধরে তোমাকে ডিস্টার্ব করছিল। আমি একা থাকায় ঠিক বলে উঠতে পারি নি, সরি!" মেয়েটি মুখে হাসি ঝুলিয়ে বলল " it's ok!" দাদু নামার পরে দুটো স্টেশান যেতে জিয়া উঠে দাঁড়াল। বুঝলাম পরের স্টেশানে নামবে। আমার গন্তব্য আসতে তখনো কয়েকটা স্টেশান বাকি। কিন্তু আমি মেয়েটার সাথে নেমে যাওয়াই স্থির করলাম। যদি একটু কথা বলার সুযোগ পাওয়া যায়! গেটের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে জিয়াকে কি বলা যায় ভাবছি তখন মেয়েটার ফোন বেজে উঠল। মেয়েটি কল রিসিভ করে একটু নিচু গলায় বলল " বাড়ি ঢুকে গেছিস তো?... আরে, ওই দাদু যে তখন নাটক মারছিল তুই ট্রেন থেকে নামার সময়ে.. ওকে নিয়ে হেব্বি রগড় হয়েছে রে মৌ... আমার স্টেশান এসে গেছে... আমি বাড়ি ফিরে তোকে ফোন করছি।" এই বলে ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল " আমার বন্ধু মৌ নামার পরে আমি একটু anxious ছিলাম এই ভেবে যে তুমিও দাদুর পক্ষ নেবে কাকা!" " তা কেন নেব? এসব বুড়োরা অকারনে ঝামেলা করে। ও চাইলে তো আমার মত ওই প্লাস্টিক দুটো কুড়িয়ে ফেলে দিতে পারত!" বলতে বলতেই ট্রেন স্টেশানে এসে দাঁড়াল আর আমরা পরপর ট্রেন থেকে নামলাম। জিয়া শুনে হেসে ফেলল। তারপরে বলল " সত্যি বলতে তুমি যেভাবে আমার জুতোর নিচ থেকে প্লাস্টিক দুটো ফেললে সেটা আমিও এক্সপেক্ট করিনি।"