Monday, 21 September 2026

রিপা

রিপা ( written by Guest Writer) এক উত্তাল রাতে বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে ধেয়ে চলছিল এক অভিশপ্ত জাহাজ। ভালো কাজের লোভ দেখিয়ে মধ্যবয়সী সনাতনী নারী রিপা দাস এবং তাঁর সতেরো বছরের কন্যা সঞ্জিতাকে অপহরণ করে বিক্রি করতে নিয়ে যাচ্ছিল কুখ্যাত মানব পাচারকারী জাওয়াদ ও তার দুই সশস্ত্র সঙ্গী—কাশেম ও রতন। জাহাজের স্যাঁতসেঁতে স্টোররুমে মোটা দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিলেন মা-মেয়ে। কিন্তু রিপা দাসের চোখে ভয়ের বদলে জ্বলছিল আক্রোশের অনির্বাণ আগুন। সনাতন ধর্মে নারী কেবল সহনশীলতার রূপ নয়; অন্যায়ের বিরুদ্ধে সে সাক্ষাৎ মহাকালী। স্টোররুমের জং ধরা এক শিকলে ঘষে নিজের চামড়া ছিলে রক্তের বিনিময়ে বাঁধন মুক্ত হলেন রিপা দাস, মুক্ত করলেন মেয়েকেও। আজ পালানো নয়, তাঁদের লক্ষ্য ছিল অসুর সংহার। মেয়ে সঞ্জিতাকে আড়ালে রেখে রিপা দাস জং ধরা লোহার রড হাতে দাঁড়ালেন। প্রথম পাচারকারী কাশেম ভেতরে ঢোকা মাত্রই রিপা তার গলায় দড়ি পেঁচিয়ে ধরেন, আর সঞ্জিতা তার হাত থেকে খঞ্জর কেড়ে নিয়ে পেটে বসিয়ে দেয়। রক্তে ভেসে যায় মেঝের কাঠ। দ্বিতীয় পাচারকারী রতন খোঁজ নিতে এলে সঞ্জিতা লোহার রড দিয়ে তার পায়ের রগে আঘাত করে এবং রিপা দাস খঞ্জর দিয়ে তার শ্বাসনালী ছিঁড়ে ফেলেন। রতনের কঙ্কালসার বীভৎস লাশের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা রক্তাক্ত সঞ্জিতাকে দেখে রিপা দাস স্তব্ধ হয়ে যান। পরম মমতায় মেয়ের হাত ধরে তিনি বলেন, "লজ্জা পাচ্ছিস কেন মা? তুই তো পাপের বুক চিরে দাঁড়িয়েছিস, এ তো তোর সাক্ষাৎ রণচণ্ডীর রূপ!" এবার মূল কালসাপ জাওয়াদকে বধ করার পালা। সঞ্জিতা লোহার রড দিয়ে জেনারেটরের প্যানেল পিটিয়ে নষ্ট করে দিলে পুরো জাহাজে জমাট অন্ধকার নেমে আসে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পিস্তল ও টর্চ নিয়ে করিডোরে বেরিয়ে আসে জাওয়াদ। কিন্তু অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পেছন থেকে সঞ্জিতা রড দিয়ে আঘাত করে তার হাতের পিস্তল ফেলে দেয়। সামনে থেকে রিপা দাস রামদার উল্টো পিঠ দিয়ে আঘাত করে জাওয়াদের দুই হাঁটু ভেঙে দেন। এরপর জাওয়াদকে দড়ি দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেন মা-মেয়ে। একসময়ের প্রতাপশালী জাওয়াদ রক্তে ভেসে মা-মেয়ের পায়ে পড়ে প্রাণের আকুতি জানায়, কোটি টাকার লোভ দেখায়। সঞ্জিতা তার গালে লাথি কষে বলে, "তুই ভেবেছিলিস আমরা অবলা? আজ তোর সব পাপের হিসাব এই সমুদ্রের বুকেই হবে!" রিপা দাস জাওয়াদের চুলের মুঠি ধরে মাথা উঁচিয়ে গর্জে ওঠেন, "নারীর সম্মান বিক্রি করা টাকায় তোর জীবন বাঁচবে না জাওয়াদ! তোদের মতো নরপশুদের জন্য কোনো দয়া থাকে না—থাকে কেবল মহাকালের সংহার!" সঞ্জিতা জাওয়াদের পা শক্ত করে চেপে ধরে। রিপা দাস জাওয়াদের গলায় রামদা বসিয়ে বিকট শব্দে চিৎকার করে ওঠেন—"জয় মা কালী!" রামদার সজোড় কোপে কেটে ফাঁক হয়ে যায় জাওয়াদের গলা। কয়েক সেকেন্ড ছটফট করে রক্তগঙ্গায় নিথর হয়ে পড়ে থাকে নরপশুর দেহ। সংহার শেষে জাওয়াদের তরতাজা রক্তে আঙুল ডুবিয়ে সঞ্জিতার কপালে রক্তিম বিজয় তিলক এঁকে দেন রিপা দাস। পরম দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, "নারী যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র তোলে, সে আর কারও দয়ার পাত্রী থাকে না—সে সাক্ষাৎ মহাকালী।" রাতের অন্ধকার ভেদ করে পূর্ব আকাশে উদয় হয় এক রক্তিম দীপ্তিময় সূর্য। সমুদ্রের বুকে ফুটে ওঠে সনাতনী নারীশক্তির এক অমর ও বিজয়ী প্রতীক।

No comments:

Post a Comment